হেদায়েতের জন্য কিতাবুল্লাহ ও রিজালুল্লাহ উভয়টিই জরুরী
মাত্র ৪০ টাকায় বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে বই পৌছে দেয়া হয় 
২-৫ দিনের মধ্যে বিতরণ যোগ্য

হেদায়েতের জন্য কিতাবুল্লাহ ও রিজালুল্লাহ উভয়টিই জরুরী

আল্লাহপাক যুগে যুগে মানুষের হেদায়েতের জন্য বিভিন্ন নবী রাসূল আলাইহিমুস সালামকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের কারো কারো প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। এভাবে উপরোক্ত দু’ ধারার সমন্বয়ে  হেদায়েতের পথ উদ্ভাসিত হয়েছে। এ কথাটি আল্লাহ পাক সুরা ফাতিহাসহ কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে মানুষকে বলে দিয়েছেন হেদায়েতের এ দুটি ধারা অবলম্বন করলেই সীরাতে মুস্তাকিম লাভ হবে। অন্যথায় নয়।

 

এ দুটি ধারার মধ্যে আবার রিজালুল্লাহর গুরুত্ব অধিক হওয়ায় বিভিন্ন সময় এমনও হয়েছে যে, আল্লাহপাক নবী তো পাঠিয়েছেন কিন্তু তার উপর নতুন কোন কিতাব নাযিল করা হয়নি। বরং তাকে পূর্বের কিতাব অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এমন কখনো ঘটেনি নবী ছাড়াই কিতাব নাযিল হয়েছে। এতে বুঝা যায় রিজালুল্লাহর গুরুত্ব বেশী।


হাকীমুল ইসলাম হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ তাইয়্যেব সাহেব রহ. তার এ ঐতিহাসিক ভাষণে কিতাবুল্লাহ ও রিজালুল্লাহ’র অপরিহার্যতা দালীলিক ও যৌক্তিকরূপে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, সাহাবা যুগ থেকেই কিভাবে এ দু’টি ধারা মানার মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর উপর সার্বিক আমল হয়ে আসছে। শরীআতের বিধানের উপর আমল করা ও সীরাতে মুস্তাকিমে অটল-অবিচল থাকা সার্বিকভাবে সম্ভব হয়েছে। আজকে যারা এ পথ ও পন্থার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয় তারাও মূলত অজ্ঞ ও অর্বাচীনদের অনুসরণ করে।

৩৬.০০ ৬০.০০
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৮
ভাষা: বাংলা
 

ফোনে অর্ডার দিতে কল করুন

০১৭২১-৯৯৯-১১২

image01

১। আপনি ফোন বা অনলাইন এর মাধ্যমে অর্ডার করার পর কিতাব ঘর আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আপনার বিলি ঠিকানা নিশ্চিত করবে ।

২। SMS এর মাধ্যমে আপনাকে আপনার অর্ডার নং ও অর্ডার এর মুল্য পাঠানো হবে ।

৩। কিতাব ঘর এখন ঢাকা ও এর আশেপাশে ক্যাশ অন ডেলিভারী ও কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে বই পাঠাচ্ছে । এবং ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে বই পাঠাচ্ছে ।

৪। বই পাঠানোর ১-২ দিনের মধ্যে আপনারা আপানদের ঠিকানাতে বই পেয়ে যাবেন। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক গ্রাম বা প্রত্যন্ত এলাকা যেখানে কোনো কুরিয়ার সার্ভিস এর সেবা নাই , সেখানকার জন্য জেলা বা থানা শহরের কুরিয়ার সার্ভিস অফিস হতে বই সংগ্রহ করতে হবে ।

৫। বইয়ের মুল্য bKash, ডাচ বাংলা মোবাইল বা ক্যাশ অন ডেলিভারী এর মাধ্যমে প্রদান করা যাবে । বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে ৪০ টাকায় বই পৌছে দেয়া হবে ।

৬। যারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে অর্ডার করবেন, তাদের জন্য ডেলিভারী চার্জ বইয়ের ওজন ও দেশের উপর নির্ভর করবে । বিভিন্ন দেশের ও বিভিন্ন পরিমানের ডেলিভারী চার্জ দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।

অনুগ্রহ করে কিতাবঘর ডট কমে লগইন করুন । লগইন

Abdullah Al Masud # পাঠ_পর্যালোচনা_ বই: হেদায়েতের জন্য কিতাবুল্লাহ ও রিজালুল্লাহ উভয়টিই জরুরী লেখক: ক্বারী মুহাম্মাদ তাইয়্যেব অনুবাদ: মাওলানা মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন প্রকাশক: মাকতাবাতুল আশরাফ ইসলামী টাওয়ার, ১১ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ বর্তমান সময়ে সমাজের বাঁকেবাঁকে নানা রকম ফিতনা ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ফেতনার অন্যতম হল, উলাময়ে কেরাম থেকে মানুষকে বিমুখ করা। এদের মধ্যে আবার দুইটা শ্রেণি রয়েছে। ক. সেসব মানুষকে বিমুখ করা, যারা ব্যক্তি জীবনে ধর্ম-কর্মের ধার ধারেন না। খ. যারা ধর্মকর্ম করেন তাদেরকে এই বুঝ দেওয়া যে, শুধু বইপত্র ও স্যাটেলাইট চ্যানেল ও নেট-ভিত্তিক জ্ঞানচর্চাই যথেষ্ট। আলেমদের সংস্পর্শে যাওয়া, তাদের মজলিসে বসা ও তাদের মুখ থেকে সরাসরি দ্বীন নেওয়া অতোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূলত দ্বিতীয় শ্রেণির উপর আলোকপাত করেই আলোচ্চ গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। গ্রন্থটির লেখক উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ আলেম ও ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের সবচে দীর্ঘ সময়ের মুহতামিম। গ্রন্থটি তার স্বহস্তে লিখিত নয়। বরং একটি ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি কিতাবুল্লাহ ও রিজালুল্লাহ'র অপরিহার্যতা দালিলিক ও যৌক্তিকরূপে উপস্থাপন করেছেন। সেটাকেই পরবর্তীতে লিখিত আকারে সংকলিত করে গ্রন্থের রূপ দেওয়া হয়। স্মর্তব্য যে, কিতাবুল্লাহ দ্বারা কুরআন ও এর সাথে সুন্নাহও উদ্দেশ্য আর রিজালুল্লাহ বলতে উলামায়ে কেরাম উদ্দেশ্য। বিশেষত সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়িগণ। বইটির অনুবাদক টঙ্গি দারুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস ও উত্তরার একটা মসজিদের ইমাম ও খতিব। অনুবাদে যে তিনি দক্ষ সেটা বইটি পড়লেই বোঝে আসে। ঝরঝরে ভাষা আর বাহুল্য বর্জিত বাক্যমালা সহজেই উদ্দিষ্ট বক্তব্য বুঝতে সহায়তা করে। বইটির শুরুতেই ধর্মীয় ইতিহাসের একটি স্বতঃসিদ্ধ নিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তা হল, আল্লাহ তাআলা হেদায়াতের জন্য দুটি পন্থা নির্ধারণ করেছেন। এক, আল্লাহর আইন। যা যুগে যুগে নবিদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। দুই, ঐ সমস্ত মহান ব্যক্তিত্ব, যাদের মাধ্যমে আল্লাহর আইনের পরিচয় লাভ হয়। এ দুটি পন্থার সমন্বয় ঘটলে সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। উভয়ের অনুপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় পরিপূর্ণ বিপথগামিতা। আর যে কোন একটির অনুপস্থিতিতে পথ হয়ে যায় বাঁকা। এরপর লেখক কুরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে প্রমাণ করেন যে, আল্লাহ তাআলা চাইলে সরাসরি কিতাব দিয়ে দিতে পারতেন মানবজাতির কাছে। তা না করে তিনি সেই কিতাব বুঝিয়ে দেবার জন্য আবার রাসুল পাঠিয়েছেন। যাতে করে তারা সেই কিতাবের সঠিক ব্যখ্যা তুলে ধরতে পারেন। তাই তো দেখা যায়, এমন কোন কিতাব নাই যা নবি ছাড়া প্রেরিত হয়েছে। তবে এমন বহু নবি আছে যাদেরকে কোন আসমানি কিতাব প্রদান করা ছাড়াই প্রেরণ করা হয়েছে। এর দ্বারাও বুঝে আসে, দ্বীনের সঠিক বুঝের জন্য রিজাল তথা ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা কতোটা অবশ্যম্ভাবী। যুগে যুগে অনেক লোক রিজালুল্লাহকে পাশ কাটিয়ে দ্বীন বুঝতে যাওয়ার চেষ্টা করে গোমরা হয়েছে। এই বিষয়টি লেখক খুব সুন্দর কিছু উদাহরণ টেনে তুলে ধরেছেন। যেমন, সালাত অর্থ দুআ। কেউ যদি দৈনিক পাঁচবার ঘরে বসে দুআ করে বলে যে আমি সালাত আদায় করেছি তবে সেটা গ্রহণীয় হবে না। কারণ নবি ও তার সাহাবিদের থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে কুরআনে সালাত শাব্দিক অর্থে ব্যবহৃত হয় নি। বরং এর একটা শরঈ পারিভাষিক অর্থ আছে। এটি পালনের নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন আছে। সেভাবে আদায় করলেই কেবল ক্লা হবে সালাত আদায় করা হয়েছে। নয়তো নয়। তো এভাবে কিতাবুল্লাহকে শুধু নিজের মতো করে বুঝতে গেলে পদে পদে স্খলিত হবার আশংকা রয়েছে। বরং এর পাশাপাশি রিজালুল্লাহকেও রাখতে হবে। কুরআনকে নবি ও তার সাহাবিরা যেভাবে বুঝেছেন সেভাবে বুঝতে হবে। পরবর্তীতে লেখক দ্বীন শেখার জন্য শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। আত্মশুদ্ধির আবশ্যিকতা ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মশুদ্ধিকরণের ধরন তুলে ধরেছেন। উম্মতের দায়িত্ব ব্যখ্যা করেছেন। প্রত্যেক আমলের ক্ষেত্রে ভাবরসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। কিতাবুল্লাহর সাথে রিজালুল্লাহ রাখতে গিয়ে অনেকে আবার ব্যক্তিপূজায় আক্রান্ত হন। তারা ব্যক্তিকে বা তার অনির্ভরযোগ্য কোন কাজকে অনুসরণীয় মনে করে ফেলেন। এই বিষয়ে লেখকের বক্তব্যটা আমার কাছে খুবই চমৎকার লেগেছে। তার বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে দিলাম, "যার যার অবস্থা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তা কোন বিধান নয়। তাই ব্যক্তির সাথে বিধানের প্রয়োজন, আর বিধানের সাথে প্রয়োজন ব্যক্তির। শুধু ব্যক্তি হলে ব্যক্তিত্বের উপহাস করা হবে। ব্যক্তিপূজা ও বংশপূজা আরম্ভ হয়ে যাবে। ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থা শরিয়ত হয়ে যাবে। যা শরিয়ত আর যা শরিয়ত নয় একাকার হয়ে যাবে। তাই ব্যক্তির অবস্থার জন্য আল্লাহর কিতাব হল পরশ পাথর। ব্যক্তিকে এই পরশ পাথর দিয়ে যাচাই করে নাও। আল্লাহর কিতাবের সাথে মিল থাকলে ঠিকাছে। আর মিল না থাকলে নিরবতা গ্রহণ করো।" সবশেষে তিনি সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান, তালিম-তরবিয়তের কয়েকটি স্তর, নতুন প্রজন্মের তরবিয়তের পন্থা ইত্যাদির উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে বইটির ইতি টেনেছেন। বইটির ১১ নং পৃষ্ঠায় ঈসা আ: কর্তৃক তাঁর মকতবের উস্তাদকে বিসমিল্লাহর অর্থ জানার জন্য প্রশ্ন করার একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনাটিকে জালালুদ্দিন সুয়ুতি, ইবনুল জাওযি, শাওকানী, ইবনে আররাক রাহিমাহুমুল্লাহসহ আরো অনেকে জাল বলে অবিহিত করেছেন। সুতরাং পড়ার সময় এটা মাথায় রাখা কর্তব্য। আরেকটা বিষয় হল বইয়ের নামে 'হেদায়েত' শব্দ লেখা হয়েছে। অথচ সঠিক শব্দ হবে হেদায়াত। ভেতরেও যতো জায়গায় শব্দটা এসেছে কোন জায়গাতেই শব্দটার বিশুদ্ধরূপ ব্যবহার হয় নি। এই ক্ষেত্রে আরো সচেতনতা কাম্য ছিল। যেহেতু শব্দটা আরবি সুতরাং তার সঠিক রূপ অনুবাদকের অজানা থাকার কথা নয়। হয়তো বেখায়ালে এবং প্রচলিত ভুল উচ্চারণের প্রভাবে এমনটা হয়ে গেছে। মোটামুটিভাবে বললে, পুরো বইটাই খুবই উপকারী। সংক্ষিপ্ত হওয়ায় শেষ করতে বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়ে না। অল্প কথায় অধিক ফায়দাজনক বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটেছে এতে। পাঠকদেরকে বইটি পড়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। বিশেষকরে জেনারেল শিক্ষিত সেসব ভাইদের, যারা দ্বীনের পথে চলতে আগ্রহী হলেও সরাসরি উলামাদের সোহবতে যাবার সুযোগ কম হয় বা এটাকে তারা অতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না

মাত্র ৪০ টাকায়

২-৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া হয়
 

ক্যাশ অন ডেলিভারি

শুধু মাত্র ঢাকা ও এর আশেপাশে প্রযোজ্য
 

০১৭২১ ৯৯৯ ১১২

ফোনের মাধ্যমে ও অর্ডার নেয়া হয়