তুষারবনে ভিন্ন মানুষ
পৃথিবীতে একসময় নিয়ান্ডারথাল নামে একটি মানব প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল। এরা হোমো স্যাপিয়েন্সদের সঙ্গে একই সময় বসবাস করত এবং ইউরোপ, এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, এরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংকরায়ণে যুক্ত হয়েছিল, যার ফলে আধুনিক মানুষের জিনে আজও নিয়ান্ডারথালদের কিছু বৈশিষ্ট্যের ছাপ রয়ে গেছে। ২০১০ সালে সাইবেরিয়ার বরফের নিচে নিয়ান্ডারথাল কঙ্কালের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ৩৫ হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে এই মানব প্রজাতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে তারা ঠিক কীভাবে নিশ্চিহ্ন হলো, তা দীর্ঘদিন রহস্যই ছিল। তুষারবনে ভিন্ন মানুষ উপন্যাসে বর্ণিত গল্পে এক দল অভিযাত্রী সাইবেরিয়ার একটি দুর্গম উপত্যকায় হোমো নিয়ান্ডারথালদের সন্ধান পায়। সেখান থেকে ফিরে এসে তারা বড়ো ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে দুজন অধ্যাপককে সঙ্গে নিয়ে আবার সেখানে গেলে তারা দেখতে পায়, ভূমিকম্পে নিয়ান্ডারথালদের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংস দেখে অধ্যাপকরা বিষণ্ণ কণ্ঠে বলেন, 'শেষ পর্যন্ত প্রায়শ্চিত্তের সুযোগটুকুও পেলাম না! আমরা সেই হোমো স্যাপিয়েন্স, যাদের পূর্বপুরুষরা একদিন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিঃশেষ করেছিল নিয়ান্ডারথালদের। হাজার হাজার বছর পর আজ তাদের শেষ উত্তরাধিকারীদের পেয়েও রক্ষা করতে পারলাম না। পারলাম না আমাদের পূর্বপুরুষদের রক্তের কলঙ্কের দাগ মুছে দিতে।' তুষারবনে ভিন্ন মানুষ উপন্যাসটি দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- নাম : তুষারবনে ভিন্ন মানুষ
- লেখক: আলম শাইন
- প্রকাশনী: : পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 120
- ভাষা : bangla
- ISBN : 9789842200090
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





