ইসলামি শরিয়তের বৈশিষ্ট্য
সাইয়িদ সাবিক রাহি.-এর خصائص الشريعة الإسلامية و مميزاتها (ইসলামি শরিয়তের বৈশিষ্ট্য) গ্রন্থটি এই মহান জীবনব্যবস্থার স্বরূপ উন্মোচনের এক অনন্য প্রচেষ্টা। সংক্ষিপ্ত পরিসরের এ বইয়ে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন, কীভাবে ইসলামি শরিয়ত মানবমনের কুহেলিকা দূর করে ইহকাল ও পরকালের মধ্যে এক বাস্তবসম্মত সেতুবন্ধন রচনা করে।
ইসলামি শরিয়তের সর্বজনীনতা তুলে ধরে লেখক বলেন, শরিয়তের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এর ব্যাপকতা, পূর্ণতা, ভারসাম্য ও মানবিকতা। একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার, সুশাসন, ন্যায়বিচার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক সাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যে আলোচনা ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, শরিয়তের মূলনীতিতে তার সবগুলোই সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই শরিয়ত ‘দ্বীনের সংরক্ষণ, প্রাণ বা জীবনের সংরক্ষণ, বিবেক-বুদ্ধির সংরক্ষণ, ইজ্জত-সম্মানের সংরক্ষণ ও সম্পদের সংরক্ষণ’ এই পাঁচটি মূলনীতির মাধ্যমে এ সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
পাশাপাশি, পাশ্চাত্যের তৈরি নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা বিবর্জিত মানবরচিত আইনের অসারতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আরও দেখান যে, শরিয়তের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো—পাশ্চাত্যের মানবরচিত আইনের মতো এখানে আইন ও নৈতিকতার ধারণা
বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দুটো একই সূত্রে গাঁথা। এখানে আইনকে নৈতিকতা, আল্লাহর বিধান ও পরকালের জবাবদিহিতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখানে কেবল অপরাধ দমন বা শাস্তি প্রদানই উদ্দেশ্য নয়; বরং এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, যেখানে
মানুষের অধিকার সংরক্ষিত হবে এবং একইসাথে অন্যায় ও ক্ষতি প্রতিহত হবে। সুতরাং, ইসলামি শরিয়তের প্রতি পুনরায় প্রত্যাবর্তন কোনো পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ নয়; বরং ন্যায়, ইনসাফ ও প্রভূত কল্যাণের একটি পূর্ণাঙ্গ ভিত্তির দিকেই প্রত্যাবর্তন।
- নাম : ইসলামি শরিয়তের বৈশিষ্ট্য
- লেখক: সাইয়িদ সাবিক
- অনুবাদক: মেহেদী হাছান রাব্বী
- প্রকাশনী: : প্রচ্ছদ প্রকাশন
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 64
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : paperback
- প্রথম প্রকাশ: 2026





