মির্জা গালিব
একবার এক কবি সম্মেলনে গালিবের এক প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁকে নিচু দেখানোর জন্য বলেছিলেন, "মির্জা, আপনার অনেক কবিতাই তো সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়।" গালিব একটুও না ঘাবড়ে চটপট উত্তর দিয়েছিলেন: "জনাব, আমি তো কবিতা লিখি আমার আত্মার তৃপ্তির জন্য। যদি কেউ তা বুঝতে না পারে, তবে সেটা সেই বোঝার ক্ষমতার অভাব, আমার কবিতার নয়। আমার কবিতা বুঝতে হলে আগে গালিব হতে হবে! গালিব যখনই কোনো নতুন কবিতা বা 'শের' মনের মধ্যে ভাঁজতেন, তখন সেটি তৎক্ষণাৎ লিখে রাখার অভ্যাস তাঁর ছিল না।
এর বদলে তিনি এক বিচিত্র পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। তিনি যখন রাতের বেলা একা বসে চিন্তা করতেন এবং কোনো নতুন পঙক্তি মাথায় আসত, তখন তিনি তাঁর পরনের কাপড়ের (সাধারণত তাঁর উড়নি বা উত্তরীয়) কোণে একটি করে গিঁট বা গিটটু দিতেন। একেকটি গিঁট মানে ছিল একেকটি নতুন 'শের'।
পরদিন সকালে যখন তিনি ঘুম থেকে উঠতেন, তখন কাপড়ের সেই গিঁটগুলো দেখে দেখে তিনি আগের রাতে মনে করা কবিতাগুলো আওড়াতেন এবং তাঁর শাগরেদ বা লিপিকারকে দিয়ে লিখিয়ে নিতেন। গালিব মজা করে বলতেন মেরে আশ'আর তো ধাগো কে পিঞ্জরে মেঁ কয়েদ পরিন্দে হ্যায়, গিঁট খুলতে হি ও আসমাঁ মেঁ পর ফ্যায়লাতে হ্যায়। অর্থাৎ: "আমার কবিতাগুলো তো সুতোর খাঁচায় বন্দি পাখি, গিঁট খুললেই তারা ডানা মেলে আকাশে ওড়ে।
- নাম : মির্জা গালিব
- প্রকাশনী: : আশরাফুল মাখলুকাত প্রকাশন
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 96
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





