শহরতলী
শহরতলি' উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য শ্রেণিবদ্ধ চিত্র যেখানে সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষের বাস্তব জীবনের ছবি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। বিখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর এই কাহিনী শ্রমিক সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম এবং মানবিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে সাজানো।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র যশোদা একজন সাহসী, কর্মঠ এবং শ্রমিক সমাজের আস্থাভাজন নেত্রী। শ্রমিকরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখে, কারণ তিনি শুধু তাদের নেত্রী নন, বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেন। চাকরির ব্যবস্থা করা, রান্না-খাওয়া করানো, বাড়ি ভাড়া দেওয়া ড় এসব কাজের মাধ্যমে যশোদা শ্রমিক সমাজের কাছে এক মায়ের মতো হয়ে উঠেছেন।
শ্রমিকরা যশোদার নেতৃত্বে নিজেদের অধিকারের জন্য ধর্মঘট ঘোষণা করে। এই ধর্মঘটের ফলে কারখানা মালিক সত্যপ্রিয় যশোদাকে এক কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে, যার কারণে শ্রমিক সমাজের ভালোবাসা ক্রমশ বদলে যায় তাদের মধ্যে অশ্রদ্ধা ও আক্রোশে। এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে সমাজের শ্রেণীসংঘাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র উঠে আসে। 'শহরতলি' উপন্যাসে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিক জীবন, তাদের সংগ্রাম ও মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতম দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
এই কাহিনী শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং শ্রমিক শ্রেণির জীবন ও ইতিহাসের এক বর্ণময় দলিল। যশোদার চরিত্র শ্রমিক সমাজের শক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক, যিনি কঠিন সময়ে নিজের ও অন্যদের রক্ষা করেন। উপন্যাসের শেষে পাঠক নিজে গল্পের ভগ্নাবশেষ আবিষ্কার করবেন এবং শ্রমিক সমাজের প্রতি লেখকের গভীর সহানুভূতি অনুভব করবেন। 'শহরতলি' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমাজ সচেতন ও মানবিক কীর্তি, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
- নাম : শহরতলী
- লেখক: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- প্রকাশনী: : দি স্কাই পাবলিশার্স
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 192
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





