খানকাহ
খানকাহ—আমার দ্বিতীয় উপন্যাস। ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এর দৃশ্যকল্প। নদী ও আটপৌরে জীবন এখানে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে গেছে বেশ কিছু চরিত্রের ওপর ভর করে। খানকাহ—বুযুর্গকেন্দ্রিক আমলের প্রদর্শনী কিংবা তথাকথিত পীরমুরিদির গল্প নয়। খানকাহ জিনিসটা মূলত এই উপন্যাসে ‘বাতিঘর’ হিসেবে কাজ করেছে। যেটা ভণ্ডদের আস্তানা নয়, পূর্ববর্তীদের জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার আকর হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। প্রকৃতার্থে এই উপন্যাসের মূল শক্তি হচ্ছে নৈতিকতা ও গভীর জীবনবোধ। এতে প্রস্ফুটিত হয়েছে আবহমানকালের বাংলার মাটি ও মানুষের সম্পর্কের রসায়ন। আর সেটা প্রকাশ পেয়েছে ইসলামের চিত্র-সৌন্দর্যের শিল্প-আবহে। এতে চিত্রিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের তিতাসকেন্দ্রিক মানুষের সম্পর্কের কাশমোকাশ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। নদীপাড়ের মানুষের জীবনধারা ও তাদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলো। এবং এতে চরিত্রের রসায়নে এসেছে আরো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়—প্রবাসীপরিবারের কিছু অন্ধকার দিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক সংঘর্ষের চিরাচরিত রূপকল্প এবং বাংলাদেশে কাদিয়ানিদের প্রথম কেন্দ্র—ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাদের তৎপরতার খণ্ডচিত্র। এতে সবচে ক্রিয়াশীল চরিত্র হচ্ছে, সিদ্দিকুর রহমান (পীরসাহেব), বুশরা বিবি (পীরসাহেবের স্ত্রী), দীপা, বেলি ও করিম মাঝি। ভুলোপথের পথিক হিসেবে এই উপন্যাসে যেভাবে দুঃখিত করবে ‘বেলি’ নামক যুবতীর চরিত্রটি, ঠিক এর পাশাপাশি হেঁটেই ফিতরত বা মূল্যবোধের পথিক হয়ে মুগ্ধতা ছড়াবে তারই বোন ‘দীপা’ নামক কিশোরী চরিত্রটি। এই দুই চরিত্রেই ক্রিয়াশীল থাকবে—সাঈদ নামে এক গভীর অন্ধকার চরিত্র। আর তিতাসকে বুঝতে ও অনুভব করতে এবং দুর্বোধ্য ঘোরে আবিষ্ট করতে হয়তো পাঠককে অনেক বেশি সহায়তা করবে করিম মাঝি। তারপরও পীরসাহেব পুরো উপন্যাসে এক অদ্ভুত মোহাচ্ছন্নতা ও হৃদয়-তাড়িত আকুলতা তৈরি করবেন। যাকে নিয়েই আবর্তিত হয়েছে গোটা উপন্যাস। পাঠক হয়তো চাইবে, কোনো এক কমলা রঙের বিকেলে কিংবা আলো-আঁধারির ঘোরগ্রস্থ সন্ধ্যায় পুরোনো সেই তিতাসপাড়ের খানকার মাঠে যদি আমার দেখা হয়ে যেত পীরসাহেবের সঙ্গে! পড়তে পড়তে কোনো পাঠিকার হয়তো মন চাইবে, যদি কোনো এক মায়াবী আলোর ভোরে বা বাইরে সূর্য যখন তার আগুনশ্বাস মানুষের ওপর ঢেলে দিবে অকাতরে, তখন যদি আমার দেখা হয়ে যেত দীপার সঙ্গে কথোপকথনরত বুশরা বিবির সঙ্গে!
- নাম : খানকাহ
- লেখক: এহসানুল্লাহ জাহাঙ্গীর
- প্রকাশনী: : নবপ্রকাশ
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 176
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : paperback
- প্রথম প্রকাশ: 2026





