দ্য মেডিকেল মাফিয়া
আমরা সাধারণত মনে করি, বাজারে আসা প্রতিটি ওষুধ শতভাগ নিরাপদ। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের FDA (Food and Drug Administration)-এর মতো শক্তিশালী সংস্থা সেগুলোর অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে কি আসলেই সব স্বচ্ছ? ড. পল স্টোলির অভিজ্ঞতায় বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র।
১. 'অফিসিয়ালি' প্রভাবিত এফডিএ
ড. পল স্টোলি যখন এফডিএ-তে যোগ দেন, তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন—সংস্থাটির ওষুধ যাচাইয়ের বাজেটের অর্ধেকই আসে সরাসরি ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে! প্রশ্ন ওঠে, যারা বেতন দিচ্ছে, তাদের কি চটানো সম্ভব? প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর ভয়ে আজ এফডিএ যেন একটি ভীতু সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
ভয়ংকর উদাহরণ—লট্রোনেক্স (Lotronex):
লট্রোনেক্স নামের ওষুধটি বাজারে আসার পর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও এফডিএ শুরুতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এক সরকারি কমিটির বৈঠকে দেখা গেল, ওষুধ কোম্পানির (জিএসকে) কর্মকর্তারা সরকারি বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে সরাসরি আক্রমণ করছেন, আর এফডিএ-র শীর্ষ কর্মকর্তারা দর্শকের ভূমিকায় নির্বাক!
২. গবেষণাপত্রেও কারসাজি?
একটি ওষুধের অনুমোদনের ভিত্তি হওয়া উচিত নিরপেক্ষ বিজ্ঞান। কিন্তু লট্রোনেক্সের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেট-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির ছয়জন লেখকের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির কর্মচারী! অর্থাৎ, যারা ওষুধটি তৈরি করেছে, তারাই এর কার্যকারিতার সার্টিফিকেট দিয়েছে।
পাবলিক সিটিজেনের গোপন নথি:
‘পাবলিক সিটিজেন’-এর উদ্ধার করা এফডিএ-র গোপন নথি থেকে জানা যায়:
ওষুধটি সাধারণ প্লাসিবোর (Placebo) চেয়ে খুব একটা কার্যকর ছিল না।
উল্টোদিকে, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল প্রাণঘাতী।
ওষুধটি বাজারে আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এতকিছুর পরও এফডিএ দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধটি বাজার থেকে সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
কেন এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা?
আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর যে আস্থা আমরা রাখি, সেই আস্থা আজ সংকটে। যখন ওষুধের ব্যবসা মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন বিজ্ঞান পরাজিত হয়।
- নাম : দ্য মেডিকেল মাফিয়া
- অনুবাদক: শাহেদ হাসান
- লেখক: রে ময়নিহান
- প্রকাশনী: : ফাউন্টেন পাবলিকেশন্স
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 272
- ভাষা : bangla
- ISBN : 978-984-29564-8-5
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





