তোমায় আমি দেখেছিলাম বলে
কোনো এক কুয়াশার দুপুরে বৈশাখী দেখতে পায়, শূন্য বাতাসে ভেসে থাকা ঝিরঝিরে শিশিরকণা; তার জীবনের প্রতিচ্ছবি। জীবন ফুরোবার নয়, জীবন চিরন্তনও নয়। অগোছালো বেঁচে থাকার পরও জীবন নিয়ত বাঁক খোঁজে নতুন কোনো দূরবর্তী কিংবা নিকটবর্তী কিনারা। মাহমুদা বেগমের মুগ্ধ দৃষ্টিতে ঝুলে থাকা হলদে জোছনা- তুই যদি নারী হইতি...! একদিন ঠিকই হব। নারী হব। কবে? মরণের সাথে দেখা হবে যবে।
জেলগেটে দাঁড়িয়ে পরিচিত মুখ খুঁজে না পেয়ে পিচঢালা খড়খড়ে রাস্তা দিয়ে সামনে এগোতে থাকে যুবায়ের। বিভ্রান্তি তার পিছু ছাড়ে না। স্ত্রী সামিয়ার প্রতি তার ক্ষোভও নেই, সন্তুষ্টিও নেই। ঘোর লাগা অভিমান যেটুকু, সব বৈশাখীর দিকে ধাবমান। খুব কি জরুরি ছিল তার জামিন? জামিনের জন্য তার কোনো তাড়া ছিল না। সামিয়ার অহেতুক প্রতিহিংসার শিকার যুবায়ের নিখোঁজ হতে চায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। মাহমুদা বেগম ছেলে রাকিবের জন্য বানানো কেকের অর্ধেকটা থেকে এক টুকরো যুবায়েরের মুখে তুলে দিয়ে বললেন, বৈশাখী যে তোমারে জামিন করাইছে, তা যেন কেউ না জানে। বাকি কথাটুকু বুকে চেপে রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। সামিয়ার সাথে তাঁর ছেলে রাকিবের যতটুকু যোগাযোগ ছিল, ততটুকু তো কখনো বৈশাখীর সাথে যুবায়েরের ছিল না।
তাহলে কেন এ হাজতবাস যুবায়েরের? এদিক-ওদিক অনেক খুঁজেও বৈশাখীর দেখা মিলল না। দেখা হওয়ার চেয়ে না হওয়ার বিষাদ কি আরও বেশি মধুর! দোকানের আবডালে বৈশাখীর কৌতূহলী চোখ। থাক। এ জীবনে আর দেখা না হোক।
- নাম : তোমায় আমি দেখেছিলাম বলে
- লেখক: সাগরিকা নাসরিন
- প্রকাশনী: : পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 72
- ভাষা : bangla
- ISBN : 9789842952128
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





