Maududi Saheber Rochonaboli Prosonge Akabirder Porjalochona (মওদুদী সাহেবের রচনাবলি প্রসঙ্গে আকাবিরদের পর্যালোচনা)

মওদুদী সাহেবের রচনাবলি প্রসঙ্গে আকাবিরদের পর্যালোচনা

৳600.00
৳420.00
30 % ছাড়

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মওদুদী বলেন,

“মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ তিনি মানবিক দুর্বলতার বশীভূত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।” তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ. ও তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা।

“আল্লাহ তা’আলার নিকট কাতর কন্ঠে এই আবেদন করুন, যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছিল তা সম্পন্ন করার ব্যাপারে আপনার দ্বারা যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।” তরজমানুল কোরআন ৮৫ তম সংখ্যা, ২৩০পৃ. ও তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা।

“আপনি আল্লাহর হামদ ও প্রশংসাবাণী উচ্চারণ করতে থাকুন। কারণ তাঁরই অনুগ্রহে আপনি এতবড় কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। আর তাঁর কাছে এ মর্মে দু‘আ করুন যে, এই বিরাট কাজ করতে গিয়ে আপনি যে ভুল-ভ্রান্তি বা দোষ-ত্রুটি করেছেন তা সব তিনি যেন মাফ করে দেন।” তাফহীমুল কুরআন: খন্ড, ৩০, পৃ: ২৮৭, ২৩০। [নাউজুবিল্লাহ]

হযরত আদম আ: স¤পর্কে বলেছেন: “হযরত আদম (আ:) মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি শয়তানী প্রলোভন হতে সৃষ্ট তড়িৎ জযবায় আত্মভোলা হয়ে নিজ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। ফলে আনুগত্যের উচ্চ শিখর হতে নাফরমানীর অতল গহ্বরে গিয়ে পড়েন।” তাফহিমুল কোরআন (উর্দু): ৩য়,খন্ড, ১২৩ পৃ.) (নাউযু বিল্লাহ।)

হযরত নূহ আ: সম্পর্কে বলেছেন: “হযরত নূহ আলাইহিস সালাম চিন্তাধারার দিক থেকে দ্বীনের চাহিদা হতে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে জাহিলিয়াতের জযবা স্থান পেয়েছিল।” তাফহিমুল কোরআন: ২য় খন্ড, ৩৪৪ পৃ. ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং) (নাউযু বিল্লাহ।)

হযরত ইব্রাহীম আ: সম্পর্কে বলেছেন: “এখানে আরেকটি প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন নক্ষত্র দেখে বলেছিলেন, এটা আমার প্রতিপালক এবং চন্দ্র-সূর্য দেখে এগুলোকেও নিজের প্রতিপালক হিসাবে আখ্যা দিয়েছিলেন, তখন সাময়িকভাবে হলেও কি তিনি শিরকে নিপতিত হননি?” তাফহিমুল কোরআন, ১মখন্ড, ৫৫৮। (নাউযু বিল্লাহ)

হযরত দাউদ আ: সম্পর্কে বলেছেন: “হযরত দাউদ আ: যে কাজটি করেছিলেন তাতে প্রবৃত্তির কামনার কিছু দখল ছিল, শাসন ক্ষমতার অসঙ্গত ব্যবহারের সাথেও তার কিছু সম্পর্ক ছিল এবং তা এমন কাজ ছিল যা কোন ন্যায়-নিষ্ঠ শাসকের জন্য শোভনীয় ছিল না।” তাফহীমুল কুরআন-১৩/৯৫, আধুনিক প্রকাশনী, ১১শ প্রকাশ।

অন্যত্র বলেন- “হযরত দাউদ (আ:) তার যুগের ইসরাইলী সমাজের সাধারণ প্রথায় প্রভাবান্নিত হয়ে উরিয়ার কাছে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার আবেদন করেন।” তাফহিমুল কোরআন -উর্দু: ৪র্থ খন্ড, সুরা সাদ, ৩২৭ পৃ. ১ম সংস্করণ, অক্টোবর ১৯৬৬ইং। নাউজুবিল্লাহ।

হযরত ইউনুস আ: সম্পর্কে বলেন: “হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম এর দ্বারা রিসালাতের দায়িত্ব আদায় করার ব্যাপারে কিছু ত্রুটি হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত তিনি ধৈর্যহারা হয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই আপন স্থান ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।” তাফহিমুল কোরআন: ২য় খন্ড, সূরা ইউনুস (টীকা দ্রষ্টব্য) ৩য় সংস্করণ, ১৯৬৪ ইং।

হযরত ইউসুফ আ: সম্পর্কে বলেন: “আমাকে মিসরের রাজকোষের পরিচালক নিয়োগ করুন- এ কথাটি বলে শুধু অর্থমন্ত্রী হওয়ার জন্যই প্রার্থনা করেন নি। কারো কারো ধারনা বরং তিনি এ বলে ‘ডিক্টেটরশীপ’ই চেয়েছিলেন মৌলিকভাবে। এরই ফলশ্রুতিতে বর্তমান ইতালীর মুসোলিনীর যে অবস্থা তিনিও এর কাছাকাছি অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।” তাফহীমাত: ২য় খন্ড, ১২২ পৃ, ৫ম সংস্করন এবং নির্বাচিত রচনাবলী (বাংলা) ২য় খন্ড, ১৫১ পৃ, আধুনিক পকাশনী, ১ম সংস্করণ ১৯৯১ইং।

সাহাবায়ে কিরাম রা. সম্পর্কে মওদুদী বলেন,

“সাহাবায়ে কিরাম সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। তাদের দোষ বর্ণনা করা যায়। সাহাবাদের সম্মান করার জন্য যদি এটা জরুরী মনে করা হয় যে, কোনভাবেই তাদের দোষ বর্ণনা করা যাবে না তবে আমার (মওদুদী) দৃষ্টিতে এটা সম্মান নয়, বরং মূর্তি পূজা। যার মূলোৎপাটনের লক্ষ্যেই জামাতে ইসলামীর জন্ম।” তরজুমানুল কুরআন ৩৫শ’ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩২৭।

“রাসূলে খোদা ছাড়া অন্য কাউকে সত্যের মাপকাঠি বানাবে না এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করবে না। কারো অন্ধ গোলামীতে লিপ্ত হবে না। অর্থাৎ সাহাবায়ে কিরাম সত্যের মাপকাঠি বলে জানবে না এবং তাদের অনুসরণ করবে না।” (দস্তুরে জামাতে ইসলামী, ৬,৭।)

এভাবে মওদুদীর ভুল-ভ্রান্তির ফিরিস্তি দিতে গেলে অনেক লম্বা লেখা লিখতে হবে। আপনারা এই বইয়ে তার ভুল-ভ্রান্তির বিস্তারিত বর্ণনা পাবেন। মোটকথা, তিনি ইসলামের এমন এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা সাহাবা তাবেঈন এর জামানা থেকে এই পর্যন্ত চৌদ্দশত বছরের কোন হক্কানী আলেম-উলামার মতের সাথে মিলে না।

মুফতীয়ে আজম মুফতী শফী সাহেব রহ. বলেন, নবীদের কেউই রিসালাতের দায়িত্ব আদায়ে কখনো ত্রুটি করতে পারেন না। কারণ, নবী-রাসূলগণের জন্য এর চাইতে বড় কোনো গুনাহ আর কিছু হতেই পারে না যে, যে দায়িত্বের জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে নির্বাচন করেছেন, তাঁরা নিজেরাই তাতে ত্রুটি করে বসবেন। এটা সে মর্যাদাগত দায়িত্বের প্রকাশ্য খিয়ানত, যা সাধারণ শালীনতাসম্পন্ন মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। এহেন ত্রুটি থেকেও যদি নবীগণ মাসূম (নিষ্পাপ) না হবেন, তবে অন্যান্য গুনাহ থেকে নিষ্পাপ হলেই বা কি লাভ! (মাআরিফুল কুরআন, সূরা ইউনুস-আয়াত: ৯৮।)

কুরআন-হাদীসের আলোকে সন্দেহাতীতভাবেই এ কথা বলা যায় যে, সকল সাহাবায়ে কিরাম সমালোচনার ঊর্ধ্বে। তাঁদের সমালোচনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বস্বীকৃত আক্বীদা হলো-সাহাবায়ে কিরাম সমলোচনার উর্দ্ধে। তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ।” (শরহুল আকায়েদ পৃষ্ঠা ৩৫২।)

ইদানিং জামায়াতে ইসলামীর কিছু লোকেরা ঐক্যের ধ্বজাধারী হতে চান, তাদের উচিত প্রকাশ্যে এ ঘোষণা দেওয়া যে- মওদূদী সাহেব জমহুর আহলে সুন্নাতের বিরুদ্ধে যা কিছু লিখেছেন এবং আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাম, সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম, ও মুজাদ্দিদিনে উম্মত রাহিমাহুল্লাহর শানে যে সব অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল এবং মওদুদীর বদ আকীদা ও ভ্রান্ত চিন্তাধারার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যদি তারা এটুকু সাহস দেখাতে পারেন, তবে আজই আমাদের মাঝে কাক্সিক্ষত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং তাদের সাথে আমাদের আর কোনো বিরোধ থাকবে না। তখন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দ্বীনের কাজ করতে পারব।

জামায়াতে ইসলামীর সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। আর আমি যেহেতু কোনো দল করি না, তাই দলগত শত্রুতাও নেই। তবুও শুধুমাত্র দ্বীনের খাতিরে বলতে বাধ্য হলাম। যদি এর দ্বারা মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদার বিষয়ে কোনো ভাইয়ের চোখ খুলে যায় এবং বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সহী আকীদার দিকে ফিরে আসে সেটাই হবে আমাদের বড় কামিয়াবী।

আশা করি, আপনারা বইটি আদ্যোপান্ত পড়ে মওদুদীর ভ্রান্ত আকীদা সম্পর্কে আকাবিরে উম্মতের রায় জানতে সক্ষম হবেন এবং তাঁরা এসব ভ্রান্তি থেকে কিভাবে উম্মাহকে সতর্ক করেছেন তাও জানতে পারবেন। তবে সত্য জানার পর মানা, না মানা আপনাদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা যেন এই বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক, পাঠক-পাঠিকা ও প্রচারক সবাইকে কবূল করতঃ তাদের জন্য নাজাতের উসীলা করেন। আমীন। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

(আল্লামা) মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

আমীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও

মহাপরিচালক, জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগর।

৭ ই জুলাই, ২০২৬ ইং

সঠিক মূল্য

সকল পণ্য তুলনামূলকভাবে বাজারের সমমূল্যে বা এর চেয়ে কম মূল্যে বিক্রয় করা হয়

ডেলিভারী

বাংলাদেশের যে-কোন প্রান্তে ২-৫ দিনের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেয়া হয়

নিরাপদ পেমেন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ

২৪/৭ কাস্টমার কেয়ার

সার্বক্ষণিক কেনাকাটার জন্য সার্বক্ষণিক সহায়তা
পণ্যটি সফলভাবে কার্টে যুক্ত হয়েছে     কার্ট দেখুন