রূহদাশিম
এক জোড়া চোখ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তা ইস্কান্দার বে-এর জানা ছিল না। বসফরাসের তীরে দেখা হ্যাজেল রঙা দুটি চোখ ইস্কান্দার বে একবারই দেখতে পেয়েছিল–সেও কোন সৌভাগ্যক্রমে!
তাও সরাসরি দেখা মিলল কই? গোধূলি বেলায় ওরতাকোয় স্কয়ারের অজ্ঞাত এক রমণীর ফোনের লকস্ক্রিনে হঠাৎ ভেসে উঠেছিল সেই চোখের ছবি। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে তার দুনিয়ার সমস্ত ধ্যান নিমেষেই হারিয়ে গেল। এক জোড়া চোখের নেশা কতটা প্রানঘাতী হতে পারে, তা সে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারল।
আত্মকেন্দ্রিক এই লোকটার জীবনে তখন থেকেই শুরু হলো অন্তহীন অস্থিরতা। নাম-পরিচয়হীন সেই সুন্দর চোখের অধিকারিণীর তীব্র নেশা তাকে এমন এক মোহে বন্দি করল, যেখানে শান্তি বা স্বস্তি বলে আর কিছু রইল না।
বসফরাসের তীরের ওরতাকোয় স্কয়ার থেকে শুরু করে ইস্তানবুলের প্রতিটি অলিগলি সে চষে বেড়াতে লাগল সেই দুটি চোখ আরেকটিবার দেখার লোভে।
অথচ কোথাও শান্তি মেলে না, কোথাও মেটে না তার মনের তৃষ্ণা। কিন্তু নিয়তি বলেও তো কিছু একটা আছে! কার ভাগ্য কবে, কখন, কার সাথে কীভাবে মিলে যায়, তা কি কেউ আগে থেকে জানতে পারে?





