রজনী
রজনী — পারিবারিক জীবন ও মানবিক অনুভূতির এক নির্লিপ্ত চিত্র
হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর এক জাদুকরী বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি অতি সাধারণ ঘরোয়া পরিবেশকেও গভীর জীবনবোধ দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। 'রজনী' উপন্যাসের শুরুতেই বাবার অসুস্থতা এবং পুত্রের নির্লিপ্ততার মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসের শুরুর আবহ ও বিশেষ দিকসমূহ:
পিতার অসুস্থতা: বাবার ভয়ংকর কাশির বর্ণনাটি যেমন কষ্টের, তেমনি এটি একটি প্রাত্যহিক রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেখকের ভাষায় এটি যেন অনেকটা 'শিয়াল প্রহরে প্রহরে ডাকার' মতো একটি নিয়মিত ঘটনা।
পুত্রের নির্লিপ্ততা ও বিরক্তি: রাত তিনটায় ঘুমাতে যাওয়া পুত্রের কাছে বাবার এই সকালের কাশি সহানুভূতির চেয়ে বিরক্তির কারণ হয়েই বেশি দেখা দেয়। "আরে যন্ত্রণা!"—এই ছোট বাক্যটি আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা আর মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
অনুশোচনা ও কর্তব্যবোধ: বিরক্তির ঠিক পরেই পুত্রের মনে যে সামান্য অনুশোচনা জাগে, তা বাঙালির চিরাচরিত পারিবারিক মূল্যবোধের প্রতীক। সহানুভূতি দেখানো উচিত কি উচিত না—এই দ্বন্দই এখানে মূল উপজীব্য।
রসিকতা ও পর্যবেক্ষণ: জীবনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার যে অদ্ভুত ক্ষমতা হুমায়ূন আহমেদের আছে, এই অনুচ্ছেদে বাবার কাশির সময়কাল আর সুস্থ থাকার সময়ের তুলনাটি তারই এক উদাহরণ।
- নাম : রজনী
- লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- প্রকাশনী: : অন্যপ্রকাশ
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 80
- ভাষা : bangla
- ISBN : 9848682597
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2008





