দ্য প্রফেট কিংকস্
দ্য প্রফেট কিংকস্
{নবী-রাসুলগণের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাস}
ইতিহাসের পাতা খুললে আমরা অসংখ্য রাজা-বাদশাহ, সম্রাট ও শাসকের গল্প দেখতে পাই। কেউ ক্ষমতার মসনদে বসে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছেন, কেউ তরবারির ঝনঝনানিতে পৃথিবী কাঁপিয়েছেন। কিন্তু এমন কিছু মহান মানুষ ছিলেন, যাঁদের হাতে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব এসেছিল অথচ ক্ষমতা তাঁদের অহংকারী করেনি; যাঁদের হাতে ছিল শাসনের ভার, অথচ হৃদয়ে ছিল আল্লাহভীতি ও মানুষের প্রতি মমতা। তাঁরা ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুল।
দ্যা প্রফেট কিংকস্—নামটির মধ্যেই যেন এক অনন্য বৈপরীত্য লুকিয়ে আছে। ‘নবী’ এবং ‘রাজা’—দুটি পরিচয় পাশাপাশি রেখে লেখক আমাদের সামনে যে ইতিহাসের দরজা খুলে দেন, সেখানে রাজত্ব মানে কেবল সিংহাসন নয়, ক্ষমতা মানে কেবল কর্তৃত্ব নয়, আর শাসন মানে কেবল আইন প্রয়োগও নয়। বরং শাসন এখানে এক গভীর আমানত; মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর বিধানের সামনে নিজের ক্ষমতাকেও নত করে দেওয়ার এক কঠিন দায়িত্ব।
ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির এই গ্রন্থে নবী-রাসুলগণের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসকে দেখা হয়েছে এক বিস্তৃত ও গভীর দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁদের নেতৃত্ব, প্রশাসন, ন্যায়বিচার, যুদ্ধ ও শান্তির নীতি, সমাজ সংস্কার এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে ইসলামী নেতৃত্বের এক অনন্য চিত্র।
বইটি পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়—রাষ্ট্র পরিচালনার প্রকৃত সৌন্দর্য হয়তো প্রাসাদের জৌলুসে নয়, বরং সেই শাসকের হৃদয়ে, যে ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে থেকেও নিজেকে একজন দায়িত্বশীল বান্দা মনে করেন।
নবী-রাসুলদের জীবনের ঘটনাগুলো এখানে কেবল অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকে না; বরং তারা বর্তমানের আয়না হয়ে সামনে দাঁড়ায়। ইতিহাসের সেই অধ্যায়গুলো আমাদের নীরবে প্রশ্ন করে—আজকের নেতৃত্বে কোথায় ন্যায়? কোথায় আমানতদারি? কোথায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা? কোথায় সেই জবাবদিহির অনুভূতি, যা একজন শাসককে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত রাখে?
এই বইয়ের অন্যতম সৌন্দর্য এখানেই—এটি শুধু ইতিহাস পড়ায় না, ইতিহাসের ভেতর থেকে শিক্ষা আহরণ করতে শেখায়।
ড. সাল্লাবির লেখায় ঘটনাগুলো নিছক তারিখ ও তথ্যের স্তূপ হয়ে আসেনি। প্রতিটি ঘটনার পেছনের শিক্ষা, নেতৃত্বের দর্শন এবং সমাজের ওপর তার প্রভাবকে তিনি তুলে ধরেছেন। ফলে পাঠক একদিকে যেমন ইতিহাসের পথে হাঁটেন, অন্যদিকে তেমনি নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে ভাবার একটি নতুন জানালাও খুলে যায়।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের চারপাশে এত আলোচনা, বিতর্ক ও বিভ্রান্তি—তখন দ্যা প্রফেট কিংকস্ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেইসব মানুষের কাছে, যাঁদের কাছে ক্ষমতা ছিল না ভোগের উপকরণ; ছিল পরীক্ষার বিষয়। যাঁদের কাছে সিংহাসন ছিল না গৌরবের শেষ ঠিকানা; বরং ছিল আল্লাহর কাছে জবাবদিহির আরও একটি কারণ।
বইটি তাই শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাস নয়; এটি নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে এক দীর্ঘ ভাবনার যাত্রা।
নবী-রাসুলদের জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি সমাজকে বদলে দিতে শুধু শক্তিশালী শাসক যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব, নৈতিক সাহস এবং মানুষের কল্যাণের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা।
সবশেষে বলতে হয়, দ্যা প্রফেট কিংকস্ এমন একটি বই, যা পড়া শেষ হলেও তার প্রশ্নগুলো শেষ হয় না।
বরং বইটি বন্ধ করার পরও মনে হয়—ক্ষমতা যদি আমানত হয়, তবে আমরা তার কতটা হক আদায় করছি? নেতৃত্ব যদি জবাবদিহির বিষয় হয়, তবে আমাদের নেতৃত্বের মানদণ্ড কী? আর রাষ্ট্র যদি মানুষের কল্যাণের জন্য হয়, তবে সেই কল্যাণের সংজ্ঞাই বা কী?
হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই বইটি পড়া উচিত।
কারণ ইতিহাস শুধু অতীতের গল্প নয়—ইতিহাস কখনো কখনো ভবিষ্যতের জন্য লেখা একটি আয়না। আর দ্যা প্রফেট কিংকস্ সেই আয়নায় নবী-রাসুলদের রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শকে আমাদের সামনে নতুন করে দৃশ্যমান করে।ছাপা,কাগজ ও বাঁধাই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির হবে।
- নাম : দ্য প্রফেট কিংকস্
- লেখক: ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
- অনুবাদক: আরিফ আফফান
- প্রকাশনী: : মাকতাবাতুস সুন্নাহ (বাংলাবাজার)
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 656
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





