পাঁচটি বিষয় মানার নাম পরিপূর্ণ ইসলাম
একজন মানুষ যখন কালিমায়ে তাইয়িবা কিংবা কালিমায়ে শাহাদাত পড়ে আল্লাহ তায়ালার তাওহিদ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয় তখন সে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান হিসাবে গণ্য হয়। আদম শুমারিতে সে মুসলমান পরিচয় বহন করে। এর পরে যদি কোন আমল না করে এবং এই ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করে তাহলে এই ঈমানের বরকতে একদিন না একদিন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে আমল ছেড়ে দেওয়ার কারণে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। সেই শাস্তির পরিমাণ কত কোটি কোটি বছর হবে তার হিসাব একমাত্র রাব্বুল আলামিনই জানেন। তাই একজন মুসলমানের জন্য এই আনুষ্ঠানিক মুসলমান হওয়াটাই যথেষ্ট নয় বরং সে যেন পরিপূর্ণ মুসলমান হয় এটাই আল্লাহ তায়ালা বান্দার নিকট কামনা করেন। সুরায়ে আলে ইমরানের ১০২ নং আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন : হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যেমন তাকে ভয় করা উচিত। এবং তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। সুরায়ে বাকারার ২০৮ নং আয়াতে বলেন, হে ঈমানদারগণ। তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
এই আয়াতদ্বয়ের আলোকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বান্দার পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়াটাই আল্লাহ তায়ালা চান। বান্দার আংশিক ইসলাম আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণ যোগ্য নয়। এখন প্রশ্ন হল পরিপূর্ণ ইসলাম কি? একজন মানুষ কি কি কাজ করলে সে পরিপূর্ণ মুসলমান হিসাবে গণ্য হবে?
হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন, কুরআন-হাদিসের বিশাল ভান্ডার মন্থন করে উলামায়ে কেরাম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পরিপূর্ণ ইসলাম হল পাঁচটি বিষয়ের নাম।
১। ঈমানিয়াত তথা ঈমান আকিদা সহিহ করা :
এটাই হলো ইসলামের বুনিয়াদ। ঈমান-আকিদার মধ্যে ত্রুটি থাকলে তার কোন আমল আল্লাহ পাকের দরবারে গৃহীত হবে না।
২। ইবাদত বন্দেগি সুন্নত তরিকা মত সম্পাদন করা :
রাসুলুল্লাহ (সা.) কে উত্তম আদর্শ ও নমুনা দিয়ে আমাদের মধ্যে প্রেরণ করা হয়েছিল। প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য যে নমুনা রেখে গিয়েছেন সেটাকেই সুন্নত বলা হয়। এই সুন্নাহই হল ইবাদত কবুল হওয়ার মাপকাঠি। এই মাপকাঠির মানদ-ে উন্নীত না হলে কোন আমল আল্লাহর দরবারে গ্রহণ যোগ্য হবে না। এমনকি নামাজও নামাজ হিসেবে গণ্য হবে না। পক্ষান্তরে এই সুন্নত অনুযায়ী পেশাব, পায়খানা করলেও তা ইবাদত হিসাবে গণ্য। এজন্য কোন কাজের মধ্যে কি সুন্নত তরিকা একজন নবির উম্মত হিসেবে প্রতিটি মুসলমানের তা জানা জরুরি।
৩। মুয়ামালাত তথা আয় রোজগার হালাল রাখা :
ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হারাম রিজিকে লালিতপালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আয় রোজগারের যত লাইন আছে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষেতে খামার, চাকরী-বাকরী, পেশা ইত্যাদি সব হালাল তরিকায় হতে হবে। এগুলোর মাসায়েল জেনে আমল না করলে আয় রোজগার হারাম হয়ে যাবে। তখন ইবাদত কবুল হবে না। দুআ কবুল হবে না। দুনিয়াতেই আল্লাহর শাস্তি আসবে, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা-দুর্ভিক্ষ হানাহানি রাহাজানি পুরা সমাজকে অস্থিরতার মধ্যে ডুবিয়ে রাখবে। সুতরাং যে কেউ যে লাইনে মেহনত করবে সেই লাইনের ইসলাম জানা তার জন্য জরুরি। ব্যবসায়ী ব্যবসা সংক্রান্ত মাসায়েল জেনে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করবে। চাকুরিজীবী চাকুরী সংক্রান্ত মাসায়েল জেনে চাকুরী করলে তার বেতন হালাল হবে।
৪। চতুর্থ হচ্ছে মুয়াশারাত তথা সামাজিকতা :
অর্থাৎ সমাজে বসবাস করতে হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে উঠা বসা করতে হয়। তাদের সকলের কিছু না কিছু হক অপরের উপর থাকে। এই হকগুলো তালাশ করে করে আদায় না করলে কিয়ামতের ময়দানে নিজের আমল থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। পাওনাদারদের পাওনা আদায় করতে করতে একপর্যায়ে তার সব নেকি নিঃশেষ হয়ে যাবে।
অতঃপর অবশিষ্ট পাওনা দারদের গুনাহের বোঝা এই ব্যক্তির কাঁধে চাপিয়ে অধমুখি করে জাহান্নামের নিক্ষেপে করা হবে। এই ব্যক্তিকেই বলা হয়েছে সবচেয়ে বেশি গরিব। এখন এই হকগুলো জেনে যদি আমরা আমল না করতে পারি তাহলে তো আমরা পরিপূর্ণ মুসলমান হতে পারলাম না।
৫। পাঁচ নম্বর হচ্ছে আখলাকিয়াত তথা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা ঃ
অর্থাৎ মানুষের অন্তরে যে রোগগুলো আছে সেগুলোর চিকিৎসা করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। অন্তরের রোগের চিকিৎসা করা ফরজ। অন্তরের রোগ অনেকগুলো যার মধ্যে ১০টি অত্যন্ত মারাত্মক। একটা রোগই মানুষকে জান্নাত থেকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। কোন আল্লাহ ওয়ালার সাথে ইসলাহি সম্পর্ক রেখে নিজের অন্তরের এই রোগ দূর করে তদস্থলে ১০টি নেক গুন অর্জন করা।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এই পাঁচটি বিষয় আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আর অন্তরের এই ১০টি রোগ সম্পর্কে মুসলমান তো একেবারেই বে খবর। আলহামদুল্লিাহ আলোচ্য কিতাবে আমি এই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করার চেষ্টা করেছি যাতে প্রতিটি মুসলমান এ সম্পর্কে অবগত হয়ে আমলের উপর উঠতে পারে। সুতরাং এই কিতাবটি নিজেও পড়ি এবং প্রতিটি মুসলমানের হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষকেই পাক্কা সাচ্চা মুসলমান হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন
খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার জন্য নবির অবর্তমানে নায়েবে নবির সাথে অর্থাৎ হক্কানি উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পর্ক রেখে তাদের নিকট থেকে মাসায়েল জেনে জেনে আমল করতে হবে। একা একা কুরআনের তাফসির কিংবা হাদিসের বাংলা অনুবাদ দেখে আমল করলে যেকোনো মুহূর্তে পদস্খলন হয়ে যাবে।
- নাম : পাঁচটি বিষয় মানার নাম পরিপূর্ণ ইসলাম
- লেখক: মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী
- প্রকাশনী: : আশরাফিয়া বুক হাউস
- পৃষ্ঠা সংখ্যা : 336
- ভাষা : bangla
- বান্ডিং : hard cover
- প্রথম প্রকাশ: 2026





